ডিসিসিআইয়ের সেমিনারে ড. মোস্তাফিজুর রহমান

অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় বাড়াতে না পারলে দেশ বিপজ্জনক অবস্থার দিকে যাবে

বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুরোটাই অভ্যন্তরীণ কিংবা বিদেশী ঋণের ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুরোটাই অভ্যন্তরীণ কিংবা বিদেশী ঋণের ওপর নির্ভরশীল। উন্নয়ন কর্মসূচি এভাবে চলতে থাকলে দেশ অচিরেই বিপজ্জনক অবস্থার দিকে যাবে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের রাজস্ব ব্যয় ও আহরণ দুটোই সমান। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পুরোটাই চলছে ঋণের ওপর। এটি একটি দুর্বল মডেল। এ মডেল চলতে থাকলে দেশ একটা বিপজ্জনক ও বাধ্যতামূলক ঋণ মডেলের মধ্যে পড়ে যাবে। এখান থেকে বেরিয়ে আসা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে যাবে।’

রাজধানীর মতিঝিলে গতকাল এক অর্থনৈতিক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ‘‌বাই-অ্যান্যুয়াল ইকোনমিক স্টেট অ্যান্ড ফিউচার আউটলুক অব বাংলাদেশ ইকোনমি-প্রাইভেট সেক্টর পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পিছিয়ে দেয়ার আবেদন করলেও ২০২৬ সালের নভেম্বরই এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি রাখতে হবে। কারণ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ আবেদন গৃহীত নাও হতে পারে। আবেদন গৃহীত হওয়ার জন্য তিনটি সূচকে আমাদের অবস্থান কম দেখাতে হবে, যা অনেকটাই জটিল। তাই সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও আমাদেরকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।’

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘শুল্ক ও বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে ও অতিরিক্ত ৩০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যে পড়তে পারে। তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালস রফতানি কমেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪২ শতাংশে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। এ অবস্থায় অর্থনীতিকে টেকসই রাখতে হলে বেসরকারি খাতকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে ও নীতি সহায়তায় ধারাবাহিকতা আনতে হবে।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ বিষয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটা শুধু সরকারের প্রস্তুতির বিষয় নয়, বেসরকারি খাতেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী পাঁচ বছর পরও প্রস্তুতি নেয়া হবে না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক নীতি বিভাগের পরিচালক (গবেষণা) মাহমুদ সালাহউদ্দিন নাসের বলেন, ‘সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা না এলে ব্যবসা পরিচালনা, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও মুনাফা অর্জন সম্ভব নয়। মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেলেই ঋণের সুদহার হ্রাসের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে। জ্বালানিস্বল্পতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেও বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আসছে না, শুধু উচ্চ সুদহার এককভাবে দায়ী নয়।’

সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য পরিচালক (এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট) নওশাদ মুস্তাফা, এডিবির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মো. রাবিউল ইসলাম।

আরও